
“”ইতিহাসের অনন্য উচ্চতায় জিয়া পরিবার””
আলহামদুলিল্লাহ,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১ তম অধিবেশনে যোগদানের মাধ্যমে, ইতিহাসের বিরলতম দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। কারণ ইতিহাসে দ্বিতীয় এমন নজির নেই যে, একই পরিবার থেকে তিন তিনজন মহান ব্যক্তি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমন বিরল কৃতিত্বের মূহুর্তে আবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের-ই আরেক গর্বিত সন্তান বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব মোঃ খলিলুর রহমান।
তিনজনের প্রথম ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রথম রাষ্ট্রপতি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যিনি 1980 সালের ২৬ আগস্ট বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন।
দ্বিতীয় ব্যক্তি হচ্ছেন,
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী, এশিয়া মহাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। যিনি ১৯৯৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর প্রথমবার এবং পরবর্তীতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তৃতীয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন,
পরিবর্তিত বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নবনির্বাচিত জনতার প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি এই মুহূর্তে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশর সমসাময়িক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছিলেনঃ
স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও অর্থনীতি:
তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ—যেমন জনসংখ্যার চাপ, বেকারত্ব, ভূমিহীনতা এবং নিম্ন মাথাপিছু আয়ের চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দেন।আঞ্চলিক সহযোগিতা: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি যৌথ আঞ্চলিক জোট গঠনের তাগিদ দেন, যা পরবর্তীতে সার্ক (SAARC) গঠনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়: উন্নত দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশের জন্য সহায়তা ও শর্তহীন অনুদান বাড়ানোর আহ্বান জানান।আত্মপ্রত্যয়: প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেছিলেন, “তবুও আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাইনি এবং হবোও না।
** তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেনঃ
প্রথম ভাষণ (১৯৯৩ সাল)বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম সাধারণ পরিষদের ১৩তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন. তার এই ভাষণটি ছিল বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে তিনি যেসব প্রধান বিষয় তুলে ধরেন:গণতন্ত্র ও উন্নয়ন: তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন পরস্পর পরিপূরক। দারিদ্র্য বিমোচনের ওপরই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।পানির ন্যায্য অধিকার: আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা ও বণ্টনের দাবি বিশ্বমঞ্চে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন.অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচি: বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন, ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি এবং দরিদ্র মানুষের মৌলিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে গৃহীত ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচির সাফল্য তিনি তুলে ধরেন.ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের অধিকার: তিনি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার সুরক্ষা এবং একটি আরও ন্যায়সংগত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১৯৯৫ সাল)১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ স্মারক সভায় বেগম খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য রাখেন।
শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশন (২০০২ সাল)প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে, ২০০২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং বাংলাদেশের গৃহিত পদক্ষেপসমূহ বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।
৬০তম সাধারণ অধিবেশন (২০০৫ সাল)২০০৫ সালে জাতিসংঘের ৬০তম সাধারণ অধিবেশনের দুটি পৃথক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন। এই অধিবেশনেও তিনি বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।এই দীর্ঘ প্রায় চার দশকের ধারাবাহিকতায় তার সুযোগ্য স্বামী অনুকরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুকরণে, ১৯৮০ সালের পর জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অংশগ্রহণঃ
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং, মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত হয়ে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করেছেন। দীর্ঘদের যোগ ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে, প্রবাস জীবন কাটাতে হলেও তিনি যেমন এক মুহূর্তের জন্যও বাংলাদেশ ও দেশের জনগণকে ভুলে যাননি, সবসময় জনকল্যাণমুখী চিন্তা ভাবনা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত হওয়ার পরেও তিনি সাদামাটা জীবন বেছে নিয়েছেন এবং জনগণের কল্যাণ সাধনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরাই তো পূর্ব দেখেছি প্রায় ৩০০ জনের বিশাল বহর নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করলেও, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় রোধে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষাসহ মাত্র ৩৫ জনের ছোট্ট একটি টিম নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।
আমরা আশাবাদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বর্তমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা স্থিতিশীল ও টেকশই গণতান্ত্রিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাহার চিন্তা চেতনার উন্মেষ ঘটাবেন। তিনি কথা বলবেন দেশ ও প্রবাসের ১৮ কোটি মানুষের আহুত সমস্যা ও সমাধানের বিষয় নিয়ে। এছাড়াও বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধবিগ্রহ সহ যে সকল অস্থিতিশীলতা বিরাজমান, সেই বিষয়গুলোকেও প্রাধান্য দিবেন। এবং সকলের পারস্পরিক সহযোগিতায়, উদ্ভুদ্ধ সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করে, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাহার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
জিয়া পরিবারের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে আমরা বাংলাদেশী হিসাবে গর্বিত। সাফল্যমন্ডিত এই সময়ে কায়মনো বাক্যে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পরিবারসহ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার সহিত সার্বিক সাফল্য ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি কামনা করছি।
এম এ মান্নান শেখ,
কবি কলামিস্ট সম্পাদক ও সঞ্চালক- প্রতিবেদক রাজশাহী বিভাগ