ফারাক্কার সব গেট খোলা: বাংলাদেশের জন্য নতুন শঙ্কা, প্রশ্ন উঠছে ভারতের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতের গঙ্গা অববাহিকায় পানির চাপ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এর প্রভাব পড়ছে ভাটির দেশ বাংলাদেশের পদ্মা নদী ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফারাক্কা দিয়ে প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহের তথ্যও এসেছে।
ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর চরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে পানি বাড়ায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ফারাক্কার সব গেট খোলার পর চরাঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন।
উজানের পানির চাপ কমানোর দায়িত্ব কি শুধু ভাটির দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে?
ভারতের অভ্যন্তরীণ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি ছেড়ে দেওয়া তাদের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু একই নদীর পানি যখন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের জনপদে প্রবেশ করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে সময়, পরিমাণ ও পূর্ব সতর্কতা নিয়ে। বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে downstream-এ প্রবাহিত হলে বাংলাদেশের নদ-নদী, চরাঞ্চল, কৃষিজমি ও নদীতীরবর্তী মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আর এ কারণেই ফারাক্কা নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশে বন্যা সৃষ্টি করতে চাইছে. এমন দাবির পক্ষে বর্তমানে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গঙ্গার অতিরিক্ত পানির চাপ কমাতেই গেট খোলা হয়েছে। একই সময়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ফারাক্কা ও বিহারের বন্যা নিয়ে উদ্বেগ এবং ব্যারাজের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের কথা উঠে এসেছে।
উজানে পানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত যদি এক দেশের প্রয়োজনেই নেওয়া হয়, আর তার বড় প্রভাব পড়ে ভাটির মানুষের জীবনে, তাহলে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সমন্বয় কোথায়?
ফারাক্কা শুধু একটি ব্যারাজ নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি দীর্ঘদিনের স্পর্শকাতর ইস্যু।
পানি কারও একার নয়, অভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনাও হতে হবে অভিন্ন দায়িত্বের ভিত্তিতে।
প্রধানমন্ত্রী ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ না দেয়া এবং ভারতকে স্পেস না দেয়ার কারনে এসব করতেছে