যেখানে মেসি থেমেছেন, সেখান থেকেই যেন ইয়ামালের মহাকাব্য শুরু।

গ্রিক পুরাণের মহাবীর একিলিস এবং তাঁর সুযোগ্য অনুসারী পেট্রোক্লাসের অদম্য লড়াইয়ের সাথে এই ঘটনাকে নিখুঁতভাবে মেলানো যায়।

যুদ্ধক্ষেত্রে একিলিস ছিলেন অপরাজেয়, যাঁর তরবারির একেকটি আঘাত প্রতিপক্ষকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিত। ঠিক তেমনি ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি ছিলেন বার্সেলোনার সেই ‘একিলিস’, যাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ খড়ের কুটোর মতো উড়ে যেত। ২০১২/১৩ মৌসুমে মেসির সেই প্রথম ৫ ম্যাচে ৩টি ব্রেস (জোড়া গোল) ছিল লা লিগার রণক্ষেত্রে তাঁর নিখুঁত তরবারি চালনার প্রমাণ।

মেসি যখন  ক্যাম্প ন্যু ছেড়ে চলে গেলেন, তখন মনে হয়েছিল বার্সেলোনার সেই অপরাজেয় রাজত্ব বুঝি শেষ। কিন্তু ঠিক তখনই রণক্ষেত্রে আবির্ভাব ঘটল তরুণ যোদ্ধা লামিনে ইয়ামালের। ইয়ামাল যেন একিলিসের সেই বর্ম আর তরবারি নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। পেট্রোক্লাস যেমন একিলিসের অনুপস্থিতিতে তাঁরই রণকৌশল আর বীরত্ব দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, ১৯ বছরের ইয়ামালও ঠিক একইভাবে গুরুর সেই পুরোনো রণকৌশল বুকে ধারণ করে প্রতিপক্ষের দুর্গ গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন।২০১২/১৩ সিজনে মেসি যখন রিয়াল সোসিয়েদাদ, ওসাসুনা আর গেতাফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, তখন তিনি ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে। আর ইয়ামাল এই কীর্তি গড়লেন রায়ো ভায়েকানো, ভ্যালেন্সিয়া এবং লেভান্তের বিপক্ষে একেবারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর লগ্নে!

মেসি তো একজনই, তাঁর জুতোয় পা গলানো অসম্ভব। কিন্তু ইয়ামাল যেভাবে নিজের একটা আলাদা সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন, তাতে একটা বিষয় নিশ্চিত বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ শুধু নিরাপদই নয়, বরং অত্যন্ত রোমাঞ্চকরও বটে !

ল্যামাসিয়ার সেই চিরচেনা জাদু আবারও বিশ্বফুটবল শাসন করতে প্রস্তুত।

যেখানে মেসি থেমেছেন, সেখান থেকেই যেন ইয়ামালের মহাকাব্য শুরু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *