
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন মহলে ক্যান্টনম্যান্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গেছে।
ফোনালাপে ওসির বরা୍দে দাবি করা হয়, “শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসলে কিছুই হবে না। আপনাদের এত চিন্তা করছেন! রাস্তার পুলিশ দুর্বল, ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত—ডিসেম্বরে দেরি করে নয়, এই মাসেই আসা উচিত। এই পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসর ও দলান্ধ কর্মকর্তাদের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও প্রশাসনের মূল জায়গায় ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো কীভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছে?
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, শুধুমাত্র একজন ওসি রাকিবুল হাসানই নন, সারা দেশেই অনেক থানায় এমন আওয়ামীপন্থী দোসররা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত প্রশাসন সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে পুরোপুরি সফল হয়নি। বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যদি প্রশাসনকে সংস্কার না করে শুধু সমঝোতা বা সুশীলগিরি করে দেশ চালায়, তবে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্য ডেকে আনতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, “বাংলাদেশে যদি আওয়ামী লীগ পুনরায় শক্তি নিয়ে ব্যাক করে, তবে তা দেশকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।” প্রশাসনের ভেতরের কিছু লোক হাসিনাকে দেশে ফেরার জন্য সাহস ও উসকানি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দেশকে এবং নিজেদের বিপদমুক্ত রাখতে অবিলম্বে এসব দলান্ধ আওয়ামী আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশাসন থেকে অপসারণের জোরালো দাবি উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ক্যান্টনম্যান্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকার নজিরবিহীন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।