“”তোমাকে চিরতরে ভুলতে চাই “”
“এম এ মান্নান শেখ ”
গুরুদাসপুর নাটোর বাংলাদেশ।
আজ হয়তো আমার বিষাদময় গল্পের দ্বিতীয় পর্বের শুরু, হৃদয় স্পন্দনটা হঠাৎ বহুগুণে বেড়ে গেল ঠিক তেমনি ভাবেই।
যেমনটা হয়েছিল বহুকাল পূর্বে তোমার সাথে জীবনের প্রথম দর্শনে, বেসামাল শরীরে প্রকম্পিত হৃদয় নিয়ে, কোনও এক কৃষ্ণচূড়ার নীচে দাঁড়িয়ে।
অন্তরটা আজ আন্দোলিত না হয়ে, বরঞ্চ তুমি সদৃশ্যে আশায় ব্যাথাতুর ভাবে অভিমানে, দ্রোহে ভীষণ ভাবে মর্মাহত।
ঐ কৃষ্ণচূড়া গাছটি মহাকালের সাক্ষী হয়ে আজও রয়ে গেছে, সে কিন্তু সেই প্রথম দিনে দুজনের প্রতি দুজনার দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি গুলো অক্ষরে অক্ষরে মনে রেখেছে।
স্বর্গ সুখের অনুভুতি নিয়ে কতোই না স্বার্থক ও মসৃণ ছিলো পথচলা,
জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকেই নতুনত্বে প্রস্ফুটিত হয়েছে মধুময় বিচ্ছুরণ।
কিন্তু হায়!!
অল্প সময়ের ব্যাবধানেই আবিষ্ট মোহ ভঙ্গ হলো, বাস্তবতায় হয়ে গেলাম স্বপ্নের অভিলাষী, যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতে সব ইচ্ছে গুলোর শুরুর আগেই সমাপ্তি ঘটলো।
এই ছিলো তোমার অন্তঃকরণে?
এভাবে কেউ না বলে চলে যায়?
কোন অজানায় পাড়ি জমালে?
কি এমন ভুল ছিলো আমার?
শোধরাবার সুযোগ দিলে না কেন?
ঘুনাক্ষরেও কি আমি স্বার্থপর ছিলাম?
জানতে চাও সেদিনের পরবর্তী অবস্থা?
কতো সকাল দুপুর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে, পাগলপ্রায় হয়ে তোমায় খুঁজতে খুঁজতে?
কতো নিশি যে তোমার যাতনায় অনাহারে অর্ধাহারে বিনিদ্র কেটেছে, তার হিসেব নিজেই মেলাতে পারিনি।
দীর্ঘকাল তুষেরআগুনে জ্বলে অঙ্গার হওয়া বিক্ষত চিত্রপটকে সবেমাত্রই কাটাছেঁড়া করে মেরামতের কাজ করছি। যেন তোমার অতীত স্মৃতি আমাকে আর না ভাবায়।
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস!! নিষ্ঠুর প্রকৃতির চক্রবাক আজ হৃদয়হীনা তোমাকে আরেকবার ভিন্ন আঙ্গিকে আমার সদৃশ্যে দাঁড় করিয়েছে।
সেই অবস্থানে কি আর আছি?
এখনতো দুজনের জগৎ সংসার-ই আলাদা। তবে কি আমি সত্যিই তোমাকে ভুলতে পেরেছি?
নাকি তোমাকে ভোলার মিথ্যে অভিনয় করছি?
বুকের বামপাশের চিনচিনে ব্যথাটা তুমি সামনে আসায় ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। নাহ্ এই ব্যথাকে আর বিন্দুমাত্র বাড়তে দেওয়া সমীচীন হবেনা। এই অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করা আমার পক্ষে হয়তো আর সম্ভব হবেনা। কারণ অতিদীর্ঘ বিষাদের সাগর পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত আমি আজ অনন্তকালের পথের যাত্রী।
অতএব মিথ্যে মায়াজালে আর আবদ্ধ না হয়ে,
তোমাকে চিরতরে ভুলতে চাই।