মেসি কেন এখনই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় বললেন?

স্পোর্টস ডেস্ক | দৈনিক জনতার কন্ঠ

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য প্রায় সব অর্জনই পূর্ণ করেছেন এই কিংবদন্তি। তবুও জাতীয় দল ছাড়ার সময়টা কেন এখন—এ প্রশ্নই এখন ঘুরছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।

মেসির বিদায়বার্তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সিদ্ধান্তটি আরও দৃঢ় হয়।

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ ম্যাচটি হয়ে যায়। এরপর তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় ঘটনা সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ৮ আগস্ট তাঁর বাবা হোর্হে মেসি মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন মেসি।

জাতীয় দলের সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেসও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালই হয়তো মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মেসির নিজের বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি জানিয়েছেন, নিজের দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই এবং জাতীয় দলে এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে আসার সময়।

নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দেওয়া

আর্জেন্টিনা দলে এখন নিকো পাজ, থিয়াগো আলমাদাসহ বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলটিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।

এই পরিবর্তনের সময়ে নিজে সরে দাঁড়িয়ে তরুণদের সুযোগ করে দেওয়াকেও মেসি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে পারেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার পর এখন সময় এসেছে নতুনদের দায়িত্ব নেওয়ার—মেসির বক্তব্যে এমন বার্তাই পাওয়া যায়।

আরেকটি বিষয় হলো বয়স। ৩৯ বছর বয়সে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা শারীরিকভাবে আগের মতো সহজ নয়। ২০২৮ কোপা আমেরিকা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে মেসির বয়স আরও বাড়বে। তাই নতুন বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগেই সরে দাঁড়ানোকে তিনি উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষ ম্যাচটি কি সত্যিই বিশ্বকাপ ফাইনাল?

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে সম্মান জানাতে বিশেষ আয়োজন করলে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে আরেকবার দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলেও তাঁর রেখে যাওয়া রেকর্ড ও অর্জন আর্জেন্টিনা এবং বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু একটি দলের তারকা ছিলেন না; তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি প্রজন্মের ফুটবল আবেগের প্রতীক।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *